Posts

Showing posts with the label Lockdown

লকডাউন

Image
Nitya Ganguly লকডাউন ২২ শে মার্চ। লকডাউন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মস্ত তালা পড়েছিল মনের দরজায়। যাব্বাবা ? আটকে গেলাম ? এ আবার কি ? এতোখানি বয়স হল এরকম আজব ব্যাপার তো কখনও ঘটতে দেখিনি। আসমুদ্র হিমাচল থমকে গেল গো - স্ট্যাচু খেলার ভঙ্গিমায়। এতোদিনের চেনা পৃথিবীকে বড় অচেনা লাগছে। বিশ্বব্যপী করোনার করাল ছায়ায় সন্দেহের মেঘ ঘনিয়ে উঠেছে মনের মধ্যে। বিশ্ব জুড়ে শুধু মৃত্যুমিছিল। সেই ভিড়ে মিশে গেল ভারতবর্ষ।   ইতিমধ্যে গৃহবন্দী এই অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখেও গেলাম দিব্যি। খানিকটা অভ্যস্তই হয়ে গেছি একদম বাইরে না বেড়িয়ে একটানা ঘরে থাকতে। খুব অসুবিধা কিছু বোধ করি না। তবে সত্যি বলতে কি , মনের একদম ভেতর থেকে ভালো নেই। খুব অপরাধবোধে ভুগছি। আমার তো তাও দুমুঠো জুটে যায় ঠিক। একপেট খিদে নিয়ে শ্রান্ত ক্লান্ত শ্রমিকের দল মাইলের পর মাইল হেঁটে যাচ্ছে শুধু ঘরে ফিরবার তাগিদে , আপনজনের কাছে পৌঁছবার আশায়। ইন্ডিয়া আজ হোম - কোয়ারেন্টিনে আর ভারতবর্ষ পথে ...

বেঁচে ওঠার লকডাউন

Image
Piyali Halder বেঁচে ওঠার লকডাউন প্রতিদিনই শুতে শুতে ভোর হয়। পাখিদের আওয়াজ , কালো কাটা জানলার বাইরের দৃশ্য আর কয়েক ঢোখ জল খেয়েই শুতে যাই। লকডাউনেও এই রুটিনের বদল হয়নি তেমন। লকডাউনের দৈর্ঘ্য বেড়ে চলা , বাড়িবন্দি দশার যন্ত্রণা , মাপা জীবনচর্চা , ভালবাসার মানুষদের অদেখার অনন্তকাল যাপন - সব মিলিয়ে হতাশা , বরক্তি , মনখারাপ , একগাদা দুশ্চিন্তা নিয়ে যখন লকডাউনের প্রায় দেড়টা মাস অতিক্রম করে ফেললাম , এমন দিনে মন ভালো করে দেয় নিস্তব্ধ রাস্তাঘাট , মাঝরাতে কোকিলের ডাক , সারা সকাল জুড়ে শালিখ , চড়ুই - এর কিচির মিচির , একপশলা বৃষ্টি পড়লেই ছোটবেলার কবিতায় পড়া ব্যাঙের গ্যাঙর গ্যাঙর ডাক , রাস্তার ধারের ফুটপাথগুলোয় পেতে রাখা পাথরের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া সবুজ ঘাস - চারারা। গোটা শীতে ধুলো জমা গাছের দিকে তাকিয়ে এখন আর মন খারাপ করেনা , বরং গ্রীষ্মের এমন দিনেও শহর কোলকাতায় যেন সবুজের মেলা বসেছে। পাড়ার অলি গলি থেকে বড় রাস্তার দুধারে জমছে না প্লাস্তিকের স্তূপ , দ...

উপলব্ধি

Image
Argha Chatterjee উপলব্ধি ম ফস্বলের এক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি। আমার বড় হয়ে ওঠা আমার সব চাওয়া পাওয়া সবের সাথে ছোট থেকেই মধ্যবিত্ততা জড়িয়ে থেকেছে। চাকুরিজীবি মা বাবাকে ব্যস্ততার মধ্যে দিন কাটাতে দেখেছি। ছোট থেকে দেখে এসেছি মা সেই সবার আগে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির কাজ সেরে, রান্না করে, আমাদের জন্য খাবার বেড়ে ঢাকা দিয়ে অফিস গেছে। আজ আমি চাকরিসূত্রে বাড়ির বাইরে। তা বেশ অনেকগুলো বছর হয়ে গেল একাই থাকি কোলকাতায়। ব্যাচেলার জীবন, খানিকটা ঝক্কিহীনতার বসেই খাবার দাবারের পাট বাইরেই সেরে ফেলি। কখনো ফুটপাতের হোটেল তো কখনো অফিসের ক্যাফেটেরিয়া। ঘর পরিষ্কার ন'মাস ছ'মাসে ওই উৎসবের মতো আর কি! কাপড় কাচা, ইস্ত্রি করা পাট করা জামা প্যান্ট - সেসবও ওই লন্ড্রির উপর দায়িত্ব দিয়ে আমি ঝাড়া হাতপা। সুতরাং বাড়ির বাইরের উপর ভরসা করে আজ আমি অনেকগুলো বছর কোলকাতাকে উপভোগ করে গেছি। বারান্দা দিয়ে South City Residence, ছাদে উঠে আলোময় শহরেও একটু তারা দেখা, বৃষ্টির দিনে বাড়ির লোকজনকে লুকিয়ে বাজ পড়ার ছবি তোলা (তারপর যদিও বকুনি মিস করিনি)। এভাবেই বেশ কাটছিল। দুদিনের বেশি ছুটি পেল...

অন্তরীণ

Image
Sandip Dutta অন্তরীণ যুগে যুগে মহামানবের তীরে ধসেছে শত আশ্রয় নীড়ে খোলো খোলো যত বাতায়ন হেরি এসেছে সমুখে বিশ্বায়ন বসুমতি তুমি আছো কি ভালো ? ঘুচে দাও যত বিষাদ কালো চোখ কেন শ্বেত মিশ্রিত লালে  অভিমানীনির কুঞ্চিত ভালে  আগুন নেভে প্রস্তর ঘর্ষণে সে জ্বলে শত মানবীর ধর্ষণে  সে আগুন আজি তোমার চোখে দেখি বুঝি বদলা নিতে ফিরেছো তুমি একী ! আজি তোমার এই কালব্যাধিতে ফুলরেনুর সব রঙের তুলিতে শোক তাপ তব বসিতে ভুলিতে  ভরবো ভূবন গানের ঝুলিতে চারশত কাল ফিরি ফিরি আসে, লড়বো জিতবো এ ঘোর সন্ত্রাসে সতেরোর প্লেগ, আঠেরোর আন্ত্রিক  ঘরবন্দি পামোরেরা আজ অযান্ত্রিক  ঊনিশের জ্বর, কুড়ির কোরোনা বিপদে কভু ভয় করো না হিমশৈল ঐ বিগলিত প্রায়  আগুন বনানীকে গিলতে ধায় আর কি করা যাবে অগত্যা  করেছো যত মানবতা হত্যা নদ-নদী দূষিত নাব্যতাহীন তুমি আমি নিরুপায় অন্তরীণ || #সন্দীপদত্ত

কোভিড ১৯

Image
Srijeeta Bhadra কোভিড ১৯ কোভিড ১৯.. করোনা ভাইরাস.. ভ্যকসিন.. এই ৩টি শব্দ নিয়েই আজ আমাদের সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত, এবং আবার সূর্যদয় এর অপেক্ষা..! বেঁচে থাকা'টাই যেন আজ আমরা ভুলতে বসেছি ! কোনো না কোনো প্রান্তে প্রতি মুহূর্তে এই মারণ ভাইরাস প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। প্রতি মুহূর্তে মৃত্যু সংবাদ এসে চলেছে। দেশের মানুষ পথে নেমে এসে ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করছে, মৃত্যু ভয় থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবী বাসি'কে ঈশ্বর বিশ্বাসী করে তুলেছে কিনা জানি না,তবে মৃত্যু সচেতন করে তুলেছে । এই জীবন সংকোট এর মাঝে, আমাদের এই বিশ্বাস অটুট যে, একদিন নিশ্চয়ই অন্ধকার কেটে গিয়ে আলো আবার আসবে... শুধু একটু সময়ের অপেক্ষা ...! ঘরে থাকুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন ...  এই দুঃসময় কে ধৈর্য্যের সাথে মোকাবিলা করার চেষ্টা করুন । নতুন সকাল আসবেই, বিজ্ঞানের জয় হবেই !!

উল্কা

Image
Snehasish Ghosal উল্কা উল্কার পরিচয় বেকার যুবক সে, সম্বল একটাই, থিয়েটার। ব্যাতিক্রমী ছেলের কড়া কড়া প্রশ্ন, জীবন ফেরাতে হবে, দাবি তার। প্রশ্নের উত্তরে কোনটা সে পেয়ে যায়, কোনটার সমাধান হয়না। বিনোদন, থিয়েটার সব চলে যায়, আর থিয়েটার তার করা হয় না। সারাদিন একা থাকে, একা রাত কাটে তার, বাড়ীঘর সবটাই দৈন্য। সাপলুডো খেলে যায়, একা একা লড়ে যায়, করোনাকে হারানোর জন্য। ভাগ্যের পরিহাস, করোনা যে হারেনা, হেরে যায় শেষমেশ ছেলেটা। অভিনয় স্মৃতি হয়, Basic need এর জয়, Third bell, শুরু হয় খেলাটা। বলোহরি-হরিবোল রব ওঠে বাড়িতে, অবশেষে থিয়েটার রয়ে গেল নাড়ীতে। সবশেষ, সবশেষ রয়ে গেল করোনা, এখনও রাষ্ট্র বলে ভয় তুমি পেওনা। স্নেহাশিস ঘোষাল ©

Lockdown

Image
Lockdown